স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর কার্যকরী টিপস

স্মৃতিশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বিজ্ঞানীদের গবেষণার শেষ নেই। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।

নিউরন ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানুষের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। মাথায় আঘাত, ওষুধের প্রতিক্রিয়া, বেশি বেশি নেশা, মনে গভীর আঘাত, ইন্টারনেট আসক্তি ইত্যাদি কারণেও স্মৃতিশক্তি কমে যায়। এছাড়া রক্তচাপ, হাঁপানি ও পেটের অভ্যন্তরে কোনো ঘা নিউরনের কর্মক্ষমতা লোপ পাওয়ার কারণ। স্মৃতিশক্তি লোপ পেলে জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর উপায়:

সঠিক খাবার নির্বাচন: স্মৃতিশক্তি ঠিক রাখতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণের বিকল্প নেই। অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ জরুরি। যেমন: শাকসবজি ও রঙিন ফল।

  • আপেল: আপেল বাংলাদেশে একটি সহজলভ্য ফল। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন-সি রয়েছে। যা মস্তিষ্কের অ্যালঝেইমার নামক রোগ প্রতিরোধ করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। এছাড়াও এটি ডিমেনশিয়া রোগ প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।
  • কালো চকোলেট: চকোলেট সবারই প্রিয়। তবে কালো চকোলেট বেশি উপকারী। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের অক্সিডেশন প্রতিরোধ করে। যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
  • গ্রিন টি: গ্রিন টিতে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনলিক যৌগ রয়েছে। তার মধ্যে এপিগ্যালোক্যাটেকিন গ্যালেট মস্তিষ্ককে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া এটি এক ধরনের প্রোটিন কমাতে সাহায্য করে। যা মস্তিষ্কে প্লাক জমিয়ে স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয় এবং স্নায়ু দুর্বল করে।
  • আদা: পরিবারে আদা মসলা হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। তবে লাল চায়ে আদা ব্যবহার করা হয়। আদা ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে এবং মস্তিষ্ককে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে রক্ষা করে।
  • ফুলকপি: ফুলকপি মূলত শীতকালীন সবজি। ফুলকপি আমাদের দেশে সহজলভ্যও বটে। এটি মস্তিষ্কের হোয়াইট ম্যাটারকে পরিষ্কার করে এবং মস্তিষ্ককে রক্ষা করে।
  • বাঁধাকপি: বাঁধাকপিও শীতকালে সহজলভ্য। বাঁধাকপি খেলে ব্রেইন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। কারণ বাঁধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
  • তরমুজ: ফল হিসেবে তরমুজ সবার প্রিয়। সব শ্রেণির মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে ফলটি। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটিনোয়েডস, লাইকোপেন ও কিউকারবিটাসিন-ই রয়েছে। যা ব্রেইন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

পর্যাপ্ত ঘুম: মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ঠিক রাখতে ও বাড়াতে পর্যাপ্ত ঘুম আবশ্যক। ক্রমাগত কাজ করলে ক্লান্তি আসে, যা স্মৃতিশক্তিতে আঘাত হানে। কাজেই পরিশ্রমের সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা যায়, আগে যেখানে দৈনিক ৬ ঘণ্টা ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য স্বাভাবিক ধরা হতো, এখন সেখানে ৮ ঘণ্টা প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুম মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

নিয়মিত ব্যায়াম: গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, নিয়মিত সামান্যতম ব্যায়াম মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ব্যায়ামের পর মস্তিষ্কে নোরেপিনেফিরিন নামে এক ধরনের রসায়ন বেড়ে যায়, যা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কের তথ্য ধারণক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

সম্পূর্ণ মনোযোগ: স্মৃতিশক্তি বাড়াতে কোনো কাজ সম্পূর্ণ মনোযোগসহকারে করুন। মনোযোগহীনতা স্মৃতিশক্তি লোপের অন্যতম কারণ। যখন যে কাজ করবেন, সেই কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ রাখলে স্মৃতিশক্তি অনেক প্রখর হয়।

মুষ্টিবদ্ধ হাত: দুই হাত মাত্র ৯০ সেকেন্ড মুষ্টিবদ্ধ করে রাখলেই স্মৃতিশক্তি বাড়ে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো কিছু শ্রবণ করলে তা সাধারণ অবস্থার চেয়ে অনেক বেশি সহজে মনে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের একদল মনোবিজ্ঞানী বিশেষ সমীক্ষার পর এ তথ্য দিয়েছেন। তারা বলেন, কোনো কিছু মনে রাখতে হলে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে শোনা বা আত্মস্থ করা ভালো। এছাড়া সাধারণত শারীরিক সক্রিয়তা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*