ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বুঝবেন যেভাবে ও ডেঙ্গু জ্বর হলে যা খাবেন

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত কিনা বুঝবেন যেভাবে ও ডেঙ্গু জ্বর হলে যা খাবেন এবং কি কি করণীয় এর প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

তো চলুন প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক ডেঙ্গু রোগের বিভিন্ন লক্ষণসমূহ:

তীব্র জ্বর: কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তার তীব্র জ্বর হবে। যদিও এবার ডেঙ্গুর লক্ষণ কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, অল্প জ্বরেও অনেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। এজন্য যেকোনো মাত্রার জ্বর হলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মাড়িতে রক্তক্ষরণ: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে পারে।

র্যাশ: ডেঙ্গু জ্বরে রোগীর সারা গায়ে ঘামাচির মতো লাল লাল র্যাশ উঠতে পারে। সাধারণত বুকের দিকে বেশি দেখা যায়। এই র্যাশে চাপ দিলে সেই জায়গাটা সাদা হয়ে যাবে আবার কিছুক্ষণ পর ফেরত চলে আসবে।

মলের রঙ পরিবর্তন: ডেঙ্গু জ্বর হলে মলের রঙ পরিবর্তন হতে পারে অর্থাৎ পায়খানা কালো হতে পারে।

অনুচক্রিকার সংখ্যা: জ্বরের তীব্র পর্যায়ে ধমনী ছিদ্র হয়ে যেতে পারে এবং রক্তে অনুচক্রিকার সংখ্যা কমে যেতে পারে। ডেঙ্গুর এ তীব্র মাত্রাকে ডাক্তারি ভাষায় ডেঙ্গু হেমোরেজিক বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম বলা হয়। যার উপসর্গ হলো শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হওয়া কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া, অবিরাম অস্বস্তি এবং অবসাদ। অনেক ক্ষেত্রে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে।

এখন জেনে নেওয়া যাক ডেঙ্গু জ্বর হলে যা খাবেন:-

ডাবের পানি: ডেঙ্গু সাধারণত ডিহাইড্রেশনের ফলে ঘটে। সুতরাং, শরীরকে আদ্র রাখতে ডাবের পানি যা করা অত্যন্ত উপকারী।

হলুদ: একটি অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে। ফলে দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে পান করলে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়।

পেঁপে পাতা: পেঁপে পাতার নির্যাস পেঁপেইন এবং কিমোপেইন সমৃদ্ধ, যা হজমে সহায়তা করে। প্রতিদিন আধা কাপ তাজা পেঁপে পাতার রস রক্তের প্লেটলেট সংখ্যা বাড়িয়ে তোলে।

বেদানা: প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং খনিজ সমৃদ্ধ বেদানা শরীরকে শক্তি সরবরাহ করে। বেদানা খেলে ক্লান্তি দূর হয়। আয়রনের সমৃদ্ধ হওয়ায় বেদানা প্লেটলেট বাড়াতে সহায়তা করে।

মেথি: মেথি খেলে ঘুম ভালো হয়, এটি ব্যথা কমাতেও কার্যকর।

কমলা: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কমলা ডেঙ্গু ভাইরাসের চিকিৎসা এবং নির্মূল করতে সহায়তা করে।

পালং শাক: পালং শাক আয়রন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে। প্লেটলেট স্তর বাড়ানোর একটি কার্যকর উপায় নিয়মিত পালং শাক খাওয়া।

এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবশেষ কথা: সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বর ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এই জ্বরের লক্ষণগুলো সাধারণত সংক্রমণের তিন থেকে ১৪ দিন পরে শুরু হয়। এরমধ্যে থাকে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেশিতে ব্যথা এবং ত্বকে র্যাশ ওঠা শুরু হয়। কলম্বিয়া এশিয়া রেফারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ পবিত্র সেন রাজ বলেন, একটি মশা যখন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড় দেয় তখন ভাইরাসটি মশার মধ্যে প্রবেশ করে। সংক্রামিত মশা যখন অন্য ব্যক্তিকে কামড় দেয় তখন ভাইরাসটি সেই ব্যক্তির রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে। এজন্য প্রথমে সতর্ক থাকতে হবে, যেন মশা আমাদের না কামড়াতে পারে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*