পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পাবার কৌশল

আজকে তোমাদের শিখাবো কিভাবে লিখলে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া যায়। আমাদের অনেকের ধারণা এই যে পরীক্ষায় বেশি বেশি লুজ সিট নিলেই ভালো নম্বর পাওয়া যায়। আবার অনেকের ধারণা হাতের লিখা ভালো হলে ভালো নম্বর পাওয়া যায়। এইগুলো একদম ভুল ধারণা। তো চল বন্ধুরা জেনে নেওয়া যাক পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পাওয়ার কয়েকটি কৌশল:

পরীক্ষার সময় ধৈর্য সহকারে প্রশ্নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলো। অনেক শিক্ষার্থীরই অভ্যাস পুরো প্রশ্ন না পড়েই উত্তর করা শুরু করা। সময়

বেশি লাগলেও ধৈর্য সহকারে কাজকর। প্রশ্নে যে রকম চেয়েছে তাইবুঝিয়ে লেখার চেষ্টা করো। উত্তর উপস্থাপনের সময় প্রশ্নের সাথে প্রসাঙ্গিক উত্তর করার চেষ্টা করো।অযথাই এক কথা বারবার লিখে উত্তর অপ্রাসঙ্গিক করলেও নাম্বার তেমন আসে না! তাই খেয়াল রাখো প্রশ্নে কী চেয়েছে।

হাতের লেখা ভালো হতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে হাতের লেখা পরিষ্কার হতে হবে। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, “আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী” অর্থাৎ প্রথমে দর্শনে ভালো হতে হবে পরে গুণের বিচার করা হবে। আর তাই পরীক্ষার খাতায় হাতের লেখা ভালো হলে পরীক্ষকের একটা আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়। সর্বোপরি, সুন্দর ও স্পষ্ট হাতের লেখা পরীক্ষার্থীর সম্পর্কে একটাইতিবাচক ধারণা তৈরী করে যারপ্রভাব সম্পূর্ণ খাতার উপরেই পড়ে।

উত্তরপত্রে লেখা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আরেকটি দিক খেয়াল রেখে উত্তর করা যেতে পারে, তা হল প্যারাকরে লেখা। প্যারা করে লিখলে একইসাথে তোমার উপস্থাপিত তথ্য ভালোভাবে শিক্ষকের চোখে পড়ে এবং তোমার উপস্থাপিত তথ্যও সুস্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয়। উত্তর লেখার সময় পয়েন্ট সহকারে প্যারা করে লিখতে হবে আর খেয়াল রাখতে হবে উভয় প্যারার মাঝে দূরত্ব লাইনের মধ্যবর্তী দূরত্বের দ্বিগুণ হবে।

অনেকে পরীক্ষার খাতায় নানা রঙের কলম ও কালি ব্যবহার করে থাকে। এতে সময় যেমন নষ্ট হয় তেমনি খাতার উপস্থাপনার সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। তাই তোমরা এ রকমটি করবে না। মার্জিন করার ক্ষেত্রে একটি ভালো মানের পেন্সিল ব্যবহার করবে। বিশেষ পয়েন্ট চিহ্নিত করার জন্য সবুজ , নীল বা হলুদ যে কোনো একটি অথবা তোমার লেখার কলম অথবা মার্জিনের পেন্সিলটিও ব্যবহার করতে পার। নানা রকম অতিরঞ্জিত কালি ব্যবহার করলে খাতার সৌন্দর্য নষ্ট হবে এবং তা নম্বর পাওয়াতেও প্রভাব ফেলতে পারে। লেখার সময় উপরে ও বামপাশে এক স্কেল এবং নিচে ও ডানপাশে হাফ স্কেল জায়গা ফাঁকা রাখবে।

অনেকেরই ধারণা থাকে পরীক্ষায় অনেক লুজ শিট নিয়ে খাতা ভারি হলেই তা বেশি নম্বর প্রাপ্তিতে সহায়তা করবে। এই চিন্তা বাদ দাও। কারণ এ ধরনের কাজ শিক্ষকদের বিরক্তকর লাগে।

পাশ ফেলের কথা চিন্তা না করে যতটুকু পারো উত্তর করে আসো। পরীক্ষায় খালি খাতা জমা দিয়ে আসার চাইতে কিছু লিখে আসবে যাতে কিছু হলেও নম্বর পাবে।

যেটা পারো, সেটা আগে উত্তর করো। জটিল কাজ আগে করে লাভ নাই। যে উত্তর ভালোভাবে পারো না সেটা নিয়ে অযথা সময় নষ্ট করবে না।

পরীক্ষার হলে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হল আত্মবিশ্বাস। পরীক্ষার আগে তুমি যা যা পড়েছো তা সঠিকভাবে খাতায় উপস্থাপন করে আসাটাই মাথায় রাখবে শুধু। আর কিছু নয়! যা শিখে গেলে তা যদি অতিরিক্ত টেনশনে ভুলে গিয়ে লিখে আসতে না পারো তাহলে লাভ নেই।

পরীক্ষা শেষে কোনটা ঠিক হলো, কোনটা ভুল হলো তার হিসাব করা একেবারেই বাদ দাও। তোমার বন্ধুর ১০টা হলে তোমার যদি হয় ৪টা হয়, সেটা জেনে কী করবে ? সেটা জানার চাইতে না জানাই ভালো। তাই পরীক্ষা শেষে প্রশ্নটাকে নির্বাসনে পাঠাও।

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেছেন –

“ একবার পরীক্ষায় কয়েকটা বিষয়ে আমি ফেল করেছিলাম কিন্তু আমার বন্ধু সব বিষয়েই পাশ করে। এখন সে মাইক্রোসফটের একজন ইঞ্জিনিয়ার আর আমি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা। ”

অনেক শিক্ষার্থীদের দেখা যায় ৩ ঘন্টায় ৭ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, অথচ তাদের ৪ টা প্রশ্নের উত্তর দিতে ২ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে, তখন তারা তাড়াহুড়া করে ১ ঘন্টায় বাকি ৩ টি প্রশ্নের উত্তর দেয়। আবার অনেকে সব সবগুলোর উত্তর দিয়ে আসতে পারে না। এমনটি করা যাবে না। প্রয়োজনে সময়সীমা অনুযায়ী প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সময় ভাগ করে নিবে।

আশা করি উপরিউক্ত কৌশলগুলো মেনে চললে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*